ঘুষের টাকায় ওয়ার্ড মাস্টার সাইফুলের গাড়ি ও বাড়ি! | তদন্ত রিপোর্ট

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:

জাতীয় সাপ্তাহিক তদন্ত রিপোর্ট পত্রিকায় সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে।

ঘুষের টাকায় ওয়ার্ড মাস্টার সাইফুলের গাড়ি ও বাড়ি!

ঘুষের টাকায় ওয়ার্ড মাস্টার সাইফুলের গাড়ি ও বাড়ি!

Manual8 Ad Code

মোঃ রায়হান হোসেন: সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুর্নীতির শিকড় কত গভীরে প্রোথিত হতে পারে, তার এক জীবন্ত দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছেন ওয়ার্ড মাস্টার সাইফুল মালেক খান। আর্তমানবতার সেবার আড়ালে এই হাসপাতালে তিনি কায়েম করেছেন একচ্ছত্র ত্রাসের রাজত্ব ও বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্য। ‘বাতির নিচে অন্ধকার’ প্রবাদের মতো হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সামলানোর আড়ালে তিনি গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়, যার মধ্যে রয়েছে বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স বাড়ি ও ব্যক্তিগত গাড়ি।

সিন্ডিকেট ও ঘুষ বাণিজ্যের নেপথ্য নায়ক:
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওয়ার্ড মাস্টার সাইফুল মালেক খান হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ কর্মকাণ্ডে নিজের এক শক্তিশালী বাহিনী গড়ে তুলেছেন। এই বাহিনীর অন্যতম সহযোগী হিসেবে নাম এসেছে সাউদিয়া সিকিউরিটি সার্ভিস কোম্পানির কর্মচারী রুবেল আহমদ রানা এবং কালো তালিকাভুক্ত (ব্ল্যাক লিস্টেড) বিতর্কিত ওয়ার্ডবয় সোহেল আহমদের।

নিয়োগ বাণিজ্য:
২০২২ সালে জনবল নিয়োগে দুর্নীতির দায়ে বহিষ্কৃত ওয়ার্ডবয় সোহেলকে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে পুনরায় নিয়োগ পাইয়ে দেওয়ার নেপথ্যে মূল ভূমিকা পালন করেন সাইফুল।

Manual1 Ad Code

বাণিজ্যিক পোস্টিং:
হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ ও ‘আয়বর্ধক’ ওয়ার্ডগুলোতে নার্স এবং ওয়ার্ডবয়দের পদায়নের বিনিময়ে সাইফুল নিয়মিত বড় অঙ্কের মাসোহারা ও এককালীন অর্থ গ্রহণ করেন। বিশেষ করে গাইনি বিভাগের ওটিসহ লাভজনক স্থানগুলো এখন তার সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে।

ঔষধ ও সরঞ্জাম চুরি:
অভিযোগ রয়েছে, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে রোগীদের জিম্মি করে অর্থ আদায় এবং সরকারি ঔষধ চুরির কাজে প্রত্যক্ষ মদদ দেন সাইফুল। বর্তমানে অর্থোপেডিক বিভাগের হাড়ের অপারেশনে ব্যবহৃত মূল্যবান ইমপ্ল্যান্ট সামগ্রী (স্ক্রু, পাত, বল ইত্যাদি) অবৈধভাবে নিয়ন্ত্রণের নীল নকশা চূড়ান্ত করছেন তিনি।

Manual7 Ad Code

অজেয় এক সাম্রাজ্য ও প্রশাসনিক নীরবতা:
সাইফুল মালেক খানের দাপটে হাসপাতালের সাধারণ কর্মচারী থেকে শুরু করে অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও তটস্থ। তার প্রভাবে অনেক সময় চিকিৎসাসেবার স্বাভাবিক নিয়ম লঙ্ঘিত হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।

Manual8 Ad Code

ভয়ের রাজত্ব:
হাসপাতালের ঝাড়ুদার থেকে শুরু করে প্রশাসনের অনেকেই তার ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পান না।

Manual3 Ad Code

গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ:
নিজের অপকর্ম ঢাকতে সাইফুল কথিত কিছু সংবাদকর্মীকে অর্থ দিয়ে নিজের পক্ষে মিথ্যা প্রচারণা চালানোর আশ্রয় নিয়েছেন বলেও জানা যায়।

দুদকের নজরে অবৈধ সম্পদ:
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, একজন সাধারণ ওয়ার্ড মাস্টার হয়েও সাইফুল মালেক খান সিলেটে যে পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির মালিক হয়েছেন, তা বৈধ আয়ে অসম্ভব। তার এই অস্বাভাবিক জীবনযাপন এবং দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অঢেল সম্পদের বিষয়ে ইতোমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জানতে ওয়ার্ড মাস্টার সাইফুল মালেক খানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সংযোগটি বিচ্ছিন্ন পাওয়া যায়। ওসমানী মেডিকেলের এই ‘অন্ধকার অধ্যায়’ উন্মোচনে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Comments are closed.

Add



© All rights reserved © tadantareport.com
Design BY Web WORK BD
ThemesBazar-Jowfhowo
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code